টংখাতা কাদের জন্য

যাঁরা খাতায় বাকি লেখেন, তাঁদের জন্যই অ্যাপটা বানানো। নিচে দোকানভেদে কার কী কাজে লাগবে — আর কাদের জন্য এটি নয় — দুটোই পরিষ্কার করে লেখা আছে।

সর্বশেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক লাইনে

টংখাতা তাঁদের জন্য, যাঁদের দোকানে মানুষ বাকি নেয় আর পরে শোধ করে। যেখানে সব বিক্রিই নগদ আর কারও কোনো বাকি থাকে না, সেখানে অ্যাপটার আসল কাজটাই লাগবে না।

টং বা চায়ের দোকান

দিনের বেশির ভাগ বিক্রি ছোট ছোট আর নগদ, কিন্তু পাড়ার চেনা কিছু মানুষের মাসিক বাকি জমে। তাঁদের জন্য প্রত্যেকের আলাদা খাতা রাখা যায়, আর যাঁরা নগদ দিয়ে যান তাঁদের বিক্রিটা ⚡ “ইনস্ট্যান্ট এন্ট্রি” দিয়ে নাম ছাড়াই টুকে রাখা যায় — খাতা খোলার ঝামেলা নেই।

মুদি ও নিত্যপণ্যের দোকান

এখানে বাকির তালিকাটাই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। কে কবে কত নিল, কত শোধ করল, এখন কত বাকি — প্রতিটা কাস্টমারের খাতায় তারিখসহ জমা থাকে, আর “বিবরণ” ঘরে কী কী মাল গেল তা-ও লেখা যায়। মাস শেষে কার কাছে কত পাওনা, এক নজরে দেখা যায়। রোজকার নিয়মটা মুদি দোকানের দৈনিক হিসাব লেখায় সাজিয়ে দেওয়া আছে।

ফার্মেসি

নিয়মিত রোগীর মাসিক বাকি আর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির সাথে পাইকারি হিসাব — দুটোই আলাদা রাখা যায়। কাস্টমার আর পাইকারের খাতার ধরনও আলাদা: কাস্টমারের ঘরে থাকে “বকেয়া বিক্রি” ও “বকেয়া আদায়”, পাইকারের ঘরে “বকেয়া কেনা” ও “পরিশোধ”।

হার্ডওয়্যার, স্টেশনারি, কসমেটিকস

দাম বেশি, বাকির অঙ্কও বড় — তাই কে কত দিন ধরে বাকি রেখেছে সেটা জানা দরকার হয়। খাতার উপরে বাকির বয়স দেখানো হয়, আর ৩ দিন পেরোলে রং কমলা, ৭ দিন পেরোলে লাল হয়ে যায়। কেউ শোধ করে দিলে দিন গোনা আবার শূন্য থেকে শুরু হয়।

পাইকারি ব্যবসা ও সাপ্লাই

যাঁরা নিজেরা মাল কিনে অন্য দোকানে দেন, তাঁদের দুই দিকেই হিসাব থাকে — কার কাছে পাবেন আর কাকে দেবেন। অ্যাপ দুটোই আলাদা করে দেখায়: “আমি পাবো” আর “আমি দেবো”। কারও কাছে অগ্রিম দিয়ে রাখলে সেটাও ধরা পড়ে, খাতাটা তখন উল্টো দিকে দেখায়।

একজনের একাধিক দোকান

একই অ্যাকাউন্টে একাধিক ব্যবসা রাখা যায়, আর প্রত্যেকটির হিসাব আলাদা থাকে — কাস্টমার, লেনদেন, ক্যাশবক্স সব আলাদা। হোম স্ক্রিনে উপরে দোকানের নামটায় চাপ দিলে তালিকা খোলে, সেখান থেকে অন্য দোকানে যাওয়া যায়। ফ্রিতে কয়টা পর্যন্ত রাখা যায় তা দোকান সেটআপের পাতায় লেখা আছে।

যাঁরা দুই ফোনে হিসাব দেখতে চান

দোকানে একটা ফোন, বাসায় আরেকটা — একই ইমেইল-পাসওয়ার্ডে দুটোতেই লগইন করা যায়, আর এটা ফ্রি। এক ফোনে লেখা এন্ট্রি অন্য ফোনে চলে আসে। শুধু মনে রাখবেন, দুই ফোনেই একই এন্ট্রি আলাদা করে এডিট করলে শেষে যেটা আগে ক্লাউডে পৌঁছায় সেটাই থাকে।

যাঁরা কাস্টমারকেও হিসাব দেখাতে চান

চাইলে একজন কাস্টমারকে তার নিজের বাকির হিসাব দেখানো যায়। তার খাতা খুলে QR/কোড তৈরি করে দিলে সে টংখাতা অ্যাপে খাতা → দোকান থেকে যুক্ত হয়ে শুধু তার নিজের লেনদেনটুকু দেখতে পারে — বদলাতে পারে না, আপনার অন্য কাস্টমারদের কিছুও দেখতে পারে না। কোডটি ৪৮ ঘণ্টা পর মেয়াদ শেষ হয় আর একবারই ব্যবহার করা যায়।

এটা দোকানের দেয়ালে টাঙানোর মতো একটা সাধারণ QR নয় — প্রতিটি কাস্টমারের জন্য আলাদা কোড তৈরি করতে হয়।

ব্যক্তিগত হিসাবেও কি চলে?

চলে, তবে অ্যাপটা দোকানের ভাষায় লেখা। ধার দেওয়া-নেওয়ার হিসাব রাখতে অনেকেই ব্যবহার করেন — যাকে ধার দিলেন তাকে “কাস্টমার” ধরে বাকি লিখলেই হলো। শুধু জেনে রাখুন, পর্দায় লেখা থাকবে “বকেয়া বিক্রি”, “বকেয়া আদায়” — দোকানের শব্দেই।

কাদের জন্য টংখাতা নয়

এই জায়গাগুলোয় অ্যাপটা আপনার কাজে আসবে না, তাই আগেই বলে রাখা ভালো:

ঠিক করে উঠতে না পারলে

সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা: আজ আপনার দোকানে কার কত বাকি, খাতা না খুলে বলতে পারেন? যদি না পারেন, আর সেটা জানা আপনার দরকার হয়, তাহলে অ্যাপটা কাজে লাগবে। এক সপ্তাহ শুধু বাকি আর আদায় দুটো লিখেই দেখুন।

আগে পুরো ছবিটা দেখতে চাইলে টংখাতা কী পাতাটা পড়ুন, আর নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকলে সাধারণ প্রশ্ন দেখুন।

এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন

ছোট টং দোকানের জন্যও কি এটা কাজে লাগে?

লাগে, যদি কিছু মানুষের বাকি থাকে। নগদ বিক্রিগুলো ইনস্ট্যান্ট এন্ট্রি দিয়ে নাম ছাড়াই টুকে রাখা যায়, আর বাকির মানুষগুলোর আলাদা খাতা থাকে।

স্টক বা মালের হিসাব রাখা যায় কি?

না। টংখাতায় ইনভেন্টরি বা স্টকের হিসাব নেই — এটি টাকার হিসাবের খাতা: বাকি, আদায়, নগদ ঢোকা-বেরোনো।

লাভ কত হলো সেটা দেখাবে?

না। অ্যাপ মালের কেনা দাম জানে না, তাই লাভ-ক্ষতি বের করে না। সে দেখায় কত বিক্রি হলো, কত নগদ ঢুকল আর কত বেরোল।

দুটো দোকান একই অ্যাকাউন্টে রাখা যাবে?

যাবে, আর দুটোর হিসাব আলাদা থাকবে। হোমে দোকানের নামে চাপ দিয়ে এক দোকান থেকে আরেকটায় যাওয়া যায়। ফ্রিতে কয়টা পর্যন্ত, তা দোকান সেটআপের পাতায় লেখা আছে।

ব্যক্তিগত ধার-দেনার হিসাব রাখা যাবে?

যাবে। যাকে ধার দিয়েছেন তাকে কাস্টমার হিসেবে যোগ করে অঙ্কটা বকেয়া হিসেবে লিখে রাখুন। শুধু পর্দার লেখাগুলো দোকানের ভাষায় থাকবে।

আরও পড়ুন

টংখাতা দিয়ে শুরু করুন

দোকানের বাকি-নগদ হিসাব, ক্যাশবক্স আর বাংলা রিপোর্ট — অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই।